উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর কেবল একটি মৌসুমী রোগ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। তাই এটিকে কেবল স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম. সেলিম উজ্জামান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী বর্ষা এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে একসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সারা বছরই ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলবায়ু অভিযোজন ও সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা (আইভিএম) জরুরি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা আবশ্যক। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন্ধ ড্রেন, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রধান উৎস। তাই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত লার্ভা জরিপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে জনগণকে এই কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।
বর্ষা শুরু হওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই মশার ঘনত্ব নিরূপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার চালু করা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পরীক্ষার সরঞ্জাম মজুত রাখা এবং একটি আধুনিক রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারি ব্যবস্থা (সার্ভেইলেন্স) গড়ে তোলা প্রয়োজন।