উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ নেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস পার হয়ে গেছে। একটি সরকারকে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করার জন্য এই সময়টা খুব কম হলেও, উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তাই এই সরকারের ওপর শুধু দেশ পরিচালনার নয়, রাষ্ট্র মেরামতেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে।
বিগত পনেরো বছরে রাষ্ট্র ভেতর থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই ক্ষমতার আবহ বদলেছেন। প্রটোকল ও গাড়িবহর কমিয়ে তিনি সচিবালয় থেকে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত ব্যয়ে সংযম দেখানোর পাশাপাশি তিনি পরিবারকে ক্ষমতার বলয়ের বাইরে রেখেছেন। প্রথম বিদেশ সফরে নয়াদিল্লি না গিয়ে কুয়ালালামপুর ও বেইজিংকে বেছে নেওয়া ছিল একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা।
তবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের ভেতরের শৃঙ্খলা রক্ষা করা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর দলের কিছু নেতাকর্মী অন্তর্ঘাতমূলক কাজ, টেন্ডারবাজি ও জবরদস্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এদের এখনই থামানো প্রয়োজন। কোনো নেতার অনুসারীরা জবরদস্তি চালালে তার সাংগঠনিক পদ এক সপ্তাহের মধ্যে কেড়ে নেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে আসতে হবে।
প্রশাসনের সংস্কারের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের আগে থানাগুলো ঠিক করা জরুরি। অতীতের নির্যাতন, গুম ও হত্যার বিচার হতে হবে শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান সংস্কার হলো অর্থনীতি। চালের দাম কমানো, কর্মসংস্থান, জ্বালানি চুক্তির স্বচ্ছতা ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো যেকোনো সাংবিধানিক সংশোধনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক আত্মমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমার হয়ে পূর্বমুখী বিকল্প পথ এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং জুলাইয়ের তরুণ শক্তিকে শত্রু না ভেবে নতুন প্রজন্ম হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।