উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
১৮৩৫ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে যে নীতি নেওয়া হয়েছিল, তার জের আজও বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থায় রয়ে গেছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের মতে, এই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন না হওয়ার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক বৈষম্য।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৩৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে তাঁর বিখ্যাত প্রস্তাব পেশ করেন। এর ওপর ভিত্তি করে ৭ মার্চ বড়লাট বেন্টিঙ্ক সিদ্ধান্ত নেন যে, শিক্ষাখাতের সরকারি বরাদ্দ কেবল ইংরেজি শিক্ষার পেছনেই ব্যয় করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কম খরচে দেশীয় কর্মচারী তৈরি করা এবং এমন এক ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণী গড়ে তোলা, যারা মনেপ্রাণে ব্রিটিশ শাসনের অনুরাগী হবে।
এই নীতির আরেকটি তত্ত্ব ছিল শিক্ষা পর্যায়ক্রমে সমাজের অধস্তন শ্রেণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এবং পশ্চিমবঙ্গের পণ্ডিত পরমেশ আচার্য্য দেখিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন না হওয়ার পেছনে শুধু ব্রিটিশদের স্বার্থ নয়, বরং দেশীয় 'ভদ্রলোক' শ্রেণীর সংকীর্ণ স্বার্থ ও বিরোধিতাও সমানভাবে দায়ী ছিল।
দুইবার স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়ার পরও বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষাও সর্বজনীন করা সম্ভব হয়নি। ব্রিটিশদের তৈরি করে দেওয়া এই বৈষম্যের ইতিহাস এবং স্থানীয় শাসকশ্রেণীর নিজেদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদই আজ পর্যন্ত এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত করতে দেয়নি।