উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নগরীতে মশার উপদ্রব কমছে না। উল্টো বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রাক-বর্ষা জরিপেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উদ্বেগজনক ঘনত্ব ধরা পড়েছে।
গত ৮ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়ি এবং ৩৪৫টি পানির পাত্রের ১১৪টিতে এডিসের লার্ভা মেলে। জরিপে কনটেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, হাউস ইনডেক্স ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ব্রেটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ পাওয়া গেছে, যা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি। উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম ও দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা ও দক্ষিণ হালিশহরকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় কীটতত্ত্ববিদ মো. মফিজুল হক শাহ জানান, প্রাপ্ত লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি ও নির্মাণাধীন ভবনই এর প্রধান প্রজননস্থল।
এদিকে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৭ জন এবং মারা গেছেন তিনজন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৫৩৬ জন এবং আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই নতুন করে ৬৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬৩ জন রোগী। সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিসের বংশবিস্তার বাড়ছে, তবে আক্রান্তদের ৯৯ শতাংশের বেশি সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং হাসপাতালে দেরিতে আসায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ২ হাজার ৬৪০ জন, ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৩ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৩৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মশক নিধনে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ওষুধ ও যন্ত্রপাতিতে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে চসিক। এছাড়া ৩৫৫ জন অপারেটরের পেছনে প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত চসিক ব্যয় করেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এই ব্যয়ের পরও চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, জামালখান, চকবাজার ও হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, মাত্র সাড়ে তিনশো কর্মী দিয়ে প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দেওয়া কঠিন হলেও তারা লার্ভা ধ্বংসকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন। মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি জানান, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৬০ সদস্যের বিশেষ দল কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক মজুত রয়েছে। তবে চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আহসান হাবিব সিয়াম ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার মশা নিয়ন্ত্রণে কীটতত্ত্ববিদদের সম্পৃক্ততা ও নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর কীটনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।