উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগের বিস্তার ও ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৪৯৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন তিনজন। মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ শতাংশ বা ১ হাজার ১৯৯ জনই শনাক্ত হয়েছেন জুলাই ও আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায়। ২০২৫ সালে জেলায় ৪ হাজার ৮৬৪ জন আক্রান্ত ও ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৩২৩ জন আক্রান্তে ৪৫ জন, ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্তে ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে ৫ হাজার ৪৪৫ জন আক্রান্তে ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মশা নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিপুল ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রথম ১০ মাসেই ওষুধ ও যন্ত্রপাতিতে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ৩৫৫ জন কর্মীর বেতনে প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং গত এক দশকে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকায়।
নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণে মাত্র ৩৫৫ জন কর্মী দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কর্মী সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, বিপুল নগরবাসীকে মাত্র সাড়ে তিনশোর মতো কর্মী দিয়ে সেবা দেওয়া কঠিন। অন্যদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মীদের দেখা মেলে না এবং কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি সম্প্রতি মশাবাহিত রোগ জাপানিজ এনসেফালাইটিস নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির আকস্মিক মৃত্যুর পর এই আতঙ্ক বাড়ে। মৃত্যুর আগে বান্দরবান সফর করা এই শিক্ষকের দ্রুত স্নায়বিক অবনতি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখে চিকিৎসকেরা কিউলেক্স মশাবাহিত এই রোগের সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তির পরপরই ড. জুথির একাধিক স্ট্রোক ও স্থানান্তরের সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল উড়ন্ত মশা না মেরে লার্ভা ধ্বংস, ড্রেন-নালা পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা জানান, নিয়মিত মশক নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জমে থাকা পানি অপসারণে উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মশার জীবনচক্রে আঘাত হানতে চসিক পরীক্ষামূলকভাবে বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।