উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে এই অঞ্চলে অন্তত ৬২টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রেলওয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নথিভুক্ত ৬২টি ঘটনার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পথে ৩৭টি এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া লাকসাম-নোয়াখালী পথে চারটি ও লাকসাম-চাঁদপুর পথে দুটি ঘটনা ঘটে। প্রতিদিন এসব রেলপথের ৪৪৩ কিলোমিটারে চলাচলকারী ২৬ জোড়া ট্রেনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
গত ৩০ জুলাই রাতে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসে কুমিল্লার রাজাপুর এলাকায় পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন মাইজদীর বাসিন্দা মহিউদ্দিন। তিনি জানান, ট্রেনটি স্টেশন পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে পাথর এসে তার মাথায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ট্রেনের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের মহানগর প্রভাতীর যাত্রী ফাহিমা চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সারোয়ার বাবু জানান, নিরাপদ ভেবে ট্রেনে চড়লেও হঠাৎ পাথর এসে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে। পাথরের আঘাতে মাথা, চোখ, নাক ও কানে গুরুতর জখম হচ্ছে। এর ফলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. মনিরুজ্জামান জানান, পাথর নিক্ষেপে শুধু যাত্রী আহত হচ্ছেন না, ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে এসি বগির একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত না হওয়া পর্যন্ত পুরো বগিটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এতে রেলওয়ের নিয়মিত পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম থানার উপপরিদর্শক সহদেব কুমার সরকার জানান, ২০২৪ সাল থেকে ডুলাহাজরা, রামু ও দোহাজারি এলাকার ঘটনায় ১২টি মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। এটি নিছক দুষ্টুমি নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।