উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানী থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামের এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি টিম গত ১১ আগস্ট ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করে। এ ঘটনায় মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়টি অবহিত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে সুমাইয়ার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিএমপির গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিকাশ বা নগদের মতো এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেෂণে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত চলমান রয়েছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে জব্দ করা মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ডিসিপি মো. তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার, বিক্রয় বা এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার বা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।