উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
এলএনজি সংকটের কারণে তীব্র গ্যাসসংকটে পড়েছেন রাজধানীর গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকেরা। কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) পাম্পের লাইনে দিনে ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না। এতে যাত্রীবহনের সময় কমে গিয়ে চালকদের দৈনন্দিন আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। ফলে যানবাহন চালকদের পক্ষে দৈনন্দিন জমার টাকা ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় গ্রিডে সম্প্রতি এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি মেলেনি পরিবহন খাতে।
সিএনজি অটোরিকশার চালক শেখ মাহবুব রব্বানী বলেন, আমাদের দিন কেটে যাচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। সিলিন্ডারে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস ভরতে পারলে সারাদিন চালানো যায়। কিন্তু পাম্পে পাই মাত্র ৮০-১০০ টাকার গ্যাস। ১৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৭ ঘণ্টা ট্রিপ মেরে জমার টাকা ও খরচ উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বর্তমানে অনেক কষ্টে আছি। জানি না এভাবে আর কত দিন চলতে হবে!
ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. গোলাপ হোসেন সিদ্দিকী জানান, গ্যাসের জন্য পাম্পে ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চালকদের কাজের সময় কমে গেলেও মালিকের দৈনিক জমার টাকায় কোনো ছাড় মিলছে না। এখনও অনেক মালিক প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত জমা নিচ্ছেন। এই আপৎকালীন সময়ে গাড়ির মালিকদের উচিত দৈনিক জমার টাকা কিছুটা কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা।
পেট্রোবাংলার জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। ওই দিন দেশীয় উৎসের গ্যাসসহ মোট সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ সরবরাহ। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য অন্তত ২ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।