উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোহাম্মদ শাহিন মিয়া, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি.
হালের গরু দিয়ে কাঠের ঘানি ঘোরানোর দৃশ্য এখন গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু সেই প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে এক অভাবনীয় উদ্ভাবন দেখিয়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঘিওর বাজারের সফল উদ্যোক্তা বিপ্লব কুমার পোদ্দার। গরু বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব অটোবাইকের যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাঠের ঘানিতে তিনি তৈরি করছেন শতভাগ খাঁটি সরিষা ও কালোজিরার তেল।
জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমেই তিনি এখন পুরোপুরি স্বাবলম্বী।
ঘিওর বাজারের বেপারী পাড়া রোডে অবস্থিত তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বিপ্লব ট্রেডার্স’। তবে এই সফলতার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না বিপ্লব কুমার পোদ্দারের জন্য। একসময় তিনি মুদি ব্যবসা করতেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের পরও সেখানে কাঙ্ক্ষিত লাভ বা ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। একের পর এক লোকসান যখন তাঁকে ঘিরে ধরেছিল, ঠিক তখনই একজন পরিচিত ভাইয়ের পরামর্শে তিনি কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙানোর আইডিয়া পান।
নতুন এই আইডিয়াকে পুঁজি করে মাত্র একটি ঘানি দিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াই,তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বর্তমান ডিজিটাল যুগের চাহিদাকে মাথায় রেখে বিপ্লব কুমার চিরাচরিত গরুর পরিবর্তে ঘানির সাথে জুড়ে দেন অটোবাইক। এই অভিনব ও দৃষ্টিনন্দন মেলবন্ধনের ফলে চাকা ঘোরার সাথে সাথেই ফোঁটায় ফোঁটায় পড়তে থাকে সোনালী রঙের খাঁটি সরিষার তেল। বর্তমানে ক্রেতাদের তুমুল চাহিদার কারণে তাঁর ঘানির সংখ্যা একটি থেকে বেড়ে দুটি হয়েছে।
বিপ্লব কুমার পোদ্দার জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে স্থানীয় বাজার থেকে বাছাইকৃত দেশি সরিষা সংগ্রহ করেন। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ভেজাল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কাঠের ঘানিতে এই তেল তৈরি করা হয়। প্রতিদিন প্রায় এক মণ সরিষা থেকে ১২ থেকে ১৩ কেজি খাঁটি তেল উৎপাদন হয়। বর্তমানে বাজারে তাঁদের উৎপাদিত প্রতি কেজি খাঁটি সরিষার তেল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা এবং ওষুধি গুণসম্পন্ন খাঁটি কালোজিরার তেল প্রতি কেজি ২,০০০ টাকা দরে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে।
খাঁটি পণ্যের নিশ্চয়তা থাকায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে ভিড় করছেন তাঁর দোকানে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী এই উদ্যোক্তা বলেন, "গ্রাহকদের আধুনিক যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া কাজে লাগিয়ে একদম খাঁটি ও মানসম্মত জিনিস খাওয়াতে পারছি, এটাই আমার বড় তৃপ্তি। এখানে কোনো ভেজালের স্থান নেই। ক্রেতাদের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে আগামীতে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর ইচ্ছা আছে। পর্যায়ক্রমে খাঁটি হলুদ, মরিচ এবং চাউল ভাঙানোর ব্যবসাও শুরু করতে চাই।"
ব্যর্থতার গ্লানি মুছে চড়াই-উতরাই পার হওয়া বিপ্লব কুমার পোদ্দারের এই অটোবাইক চালিত কাঠের ঘানি শুধু তাঁর ভাগ্যই বদলায়নি, বরং ঘিওর বাজারে খাঁটি পণ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিপ্লবের এই উদ্ভাবনী ও সততার ব্যবসা এক দারুণ অনুপ্রেরণা।