উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ভারী বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা খাদিজা জান্নাত সুজন জানান, রাত থেকে বৃষ্টি হওয়ায় সকালে রাস্তায় পানি আরও বেড়েছে এবং হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় একই ভোগান্তি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ফকরুল আলম জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তায় অনেক পানি এবং গাড়ি কম থাকায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক সময় লাগছে। বৃষ্টির সঙ্গে যানবাহনের সংকট থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বহদ্দারহাট এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী এস এম গিয়াস উদ্দিন বলেন, সড়কে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে।
চলমান গ্যাস সংকটের কারণে নগরীতে গণপরিবহনের সংখ্যাও কম দেখা গেছে এবং গ্যাসের অভাবে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে নামেনি। নগরীর পাশাপাশি আশপাশের উপজেলাগুলোতেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে এবং বোয়ালখালীর চরখিজিরপুর-সাতগড়িয়াপাড়া এলাকায় পুরো বর্ষা জুড়েই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
১২ বছর ধরে এই নগরীতে রিকশা চালানো মো. ইব্রাহিম আক্ষেপ করে বলেন, ১২ বছর ধরে সরকার কাজ করলেও জলাবদ্ধতা কমে না, এত টাকা খরচ করে লাভ কী। আজ সোমবার নগরীর আগ্রাবাদ ও পাঠানটুলী এলাকায় হাঁটুসমান পানি ঠেলে চলতে গিয়ে ইব্রাহিমের মতো একই ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন নগরীর বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। পাঠানটুলীর বাসিন্দা সাজ্জাদ রাকিব বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ভোগান্তি বাড়ে এবং সারাবছর উন্নয়নকাজ চললেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।
অফিসগামী রকি হায়দার জানান, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর এই পরিণতির কারণে তাকে অফিসে আসতে হয়েছে প্যান্টের বদলে লুঙ্গি পরে। ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক বের হতে হয় এবং বাসার নিচে ও অফিসের নিচে পানি থাকার পাশাপাশি ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে সোমবার সকাল থেকে বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, চকবাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ ও রাহাত্তারপুলসহ প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। লঘুচাপের প্রভাব ও মৌসুমি বায়ুর কারণে চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।