উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহণব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। সড়কে প্রতিনিয়ত যে অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, তা কেবল নগরবাসীর দৈনন্দিন মূল্যবান সময় নষ্ট করছে না, কেড়ে নিচ্ছে বহু তাজা প্রাণ। শত শত মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় চার কোটি ট্রিপ হলেও বাসে যাত্রী পরিবহণের হার ২০০৯ সালের ২৮ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশে ঠেকেছে। একই সময়ে শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। গণপরিবহণের এ অচলাবস্থার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অভাব এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবহণ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপকরা জানিয়েছেন যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বা কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা মূলত একটি নিয়মানুগ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে রাজধানীতে বাস পরিচালনায় মালিকদের দৈনিক চুক্তিভিত্তিক টাকা আদায়ের প্রথা চালু রয়েছে। ফলে চালকদের নির্দিষ্ট বেতন, সম্মানজনক কর্মঘণ্টা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ বিশৃঙ্খলা কমানো যাবে না।
বিগত এক দশকে ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের আমলে ১৭৪টি রুটকে ২২টিতে আনা এবং চার হাজার আধুনিক বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষী পরিবহণ গোষ্ঠীর অসহযোগিতার কারণে সেই রূপরেখা থমকে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গণপরিবহণে টেকসই শৃঙ্খলা ফেরানো, অনিয়ন্ত্রিত যানজট কমানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বাস রুট রেশনালাইজেশনের এতদিন ধরে স্থগিত থাকা দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়া সংশোধন করে বুয়েট ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে একটি গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।