উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর একাধিক নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বিমানে উঠে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সিকিউরিটি চেক পর্যন্ত কোনো স্তরেই এই গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়া দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের ভঙ্গুর নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই উন্মোচন করেছে। বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরে ধরা না পড়ে দিল্লির বিমানবন্দরে উন্মোচিত হওয়া জাতির জন্য বিব্রতকরও বটে। তদন্তে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ওই ব্যক্তি সাধারণ প্রটোকল এড়িয়ে অনিয়ম ও অবৈধ প্রটোকলের সুযোগ পান। স্ক্রিনিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনিটরে নজর না রেখে যাত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত ছিলেন যা জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে প্রভাবশালী কিংবা ভিআইপি, কারও জন্যই সিকিউরিটি প্রটোকল শিথিল করা যাবে না। প্রধান বিমানবন্দরে ব্যক্তির পরিচয় দেখে নিরাপত্তার নিয়ম শিথিল করার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিমানবন্দর কোনো ব্যক্তিগত প্রটোকল প্রদর্শনের জায়গা নয়, এটি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তার একটি স্পর্শকাতর কেন্দ্র। তাই এ ঘটনায় শুধু তদন্ত কমিটি গঠন আর কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মীর বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নিলে চলবে না। ঘটনার পেছনের প্রত্যেক ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ভিআইপি বা প্রটোকল সংস্কৃতির নামে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি সচল রাখার পাশাপাশি কর্মীদের পেশাদারত্ব ও সততা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন বিমানবন্দরে আর কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।