উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও হবিগঞ্জের মতো প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলের শত শত কলকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানির অভাবে কারখানার চাকা না ঘোড়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং শিল্প খাতে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যে সাভার-আশুলিয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন এবং লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন সময় পার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ, গ্যাস বিল ও শ্রমিকের বেতন পরিশোধের চিন্তায় শিল্পোদ্যোক্তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয় ১১ আগস্ট আরামকোর কার্গো পৌঁছানোর পর আরও ঘনীভূত হয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট ওই কার্গোটিকে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে খালাস করতে অস্বীকৃতি জানালে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোন টার্মিনালে কোন কার্গো খালাসযোগ্য তা আগে থেকে নিশ্চিত না করায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা শিল্প খাতকে সংকটে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিগত সরকারগুলোর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই খেসারত দিতে হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কাজ করছেন। তবে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য বা আশ্বাসে সংকট কাটবে না, দ্রুত দৃশ্যমান সমাধান না এলে শ্রমিকদের কর্মহীনতা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল, এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট গ্রুপের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা অবিলম্বে নিরসন করা প্রয়োজন। কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস খালাসের ব্যবস্থা এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।