উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকা পালনকারী বিপুলসংখ্যক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালন করা প্রায় ৩৫ শতাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও ট্রেনিং সেন্টারে বহাল রয়েছেন। যেখানে সরাসরি নির্বিচারে গুলি চালানো এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো মারাত্মক অভিযোগে মামলা বিচারাধীন, সেখানে বিপুলসংখ্যক বিতর্কিত কর্মকর্তার দায়িত্বে বহাল থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কর্মকর্তারা স্বপদে বহাল থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনমনে আস্থা ফিরে আসার পথও রুদ্ধ হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি আদেশের সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের যে কোনো ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এবং সাময়িক বরখাস্তের আওতায় আনাও আবশ্যক।
অপকর্মের দায়ে শুধু বদলি কোনো সমাধান হতে পারে না, বরং অভিযোগের সত্যতা মিললে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সঙ্গত। এছাড়া যারা বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন, তাদের বিচারে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধাবাদী বলয় থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াকেও স্বচ্ছ করতে হবে।