উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সম্প্রতি জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ ও রাকিব হোসেনকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে খেপ খেলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানীয় টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়টি ফুটবলাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সরকারি ভাতা ও পেশাদার ক্লাবের বেতন পাওয়ার পরও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এ ধরনের স্থানীয় ম্যাচে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সোমবার রাতে রাজধানীর কালশীতে একটি স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সাবেক জাতীয় দলের গোলরক্ষক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, সরকার খেলোয়াড়দের নিয়মিত মাসিক ক্রীড়া ভাতা দিচ্ছে, তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং পেশাদার ক্লাবগুলোর সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামগঞ্জে গিয়ে খেপ খেলায় অংশ নেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন রয়েছে। আমিনুল হকের মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের নিজের ফিটনেস ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো খেলোয়াড় স্থানীয় ম্যাচে অংশ নিয়ে চোটে পড়লে এর প্রভাব শুধু তাঁর নিজের ওপর পড়ে না, জাতীয় দল ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ না করে এ ধরনের খেলায় অংশ নেওয়া অসদাচরণের শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ের খেপ ম্যাচগুলো সাধারণত অনুমোদিত পেশাদার প্রতিযোগিতার মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে মাঠের মান, চিকিৎসা সুবিধা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত থাকে না। এ ধরনের ম্যাচে অসমান মাঠ, অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং প্রতিপক্ষের শারীরিক ট্যাকলের কারণে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড় গুরুতর চোটে পড়লে তাঁর ফিটনেস নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও ক্লাব ফুটবলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাজের ব্যস্ততার কারণে এখনো বাফুফে সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খেপ খেলতে যাওয়া ফুটবলারদের প্রথমে বাফুফের মাধ্যমে কঠোরভাবে সতর্ক করা হবে এবং এরপরও কেউ একই ধরনের আচরণ অব্যাহত রাখলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাদার ফুটবলে জাতীয় দল বা লিগে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রা নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পেলেও খেপ ম্যাচে সাধারণত তাৎক্ষণিক অর্থ দেওয়া হয়। পেশাদার ম্যাচে আন্তর্জাতিক বা অনুমোদিত মানের মাঠ ও চিকিৎসা সহায়তা থাকলেও স্থানীয় খেপ ম্যাচে এসব প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা থাকে না। পেশাদার ফুটবলে চোট পেলে পুনর্বাসন ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু স্থানীয় ম্যাচে গুরুতর চোট পেলে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের পর বাফুফে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলাঙ্গনের।