উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বখ্যাত বিপ্লবী এর্নেস্তো চে গেভারার আত্মত্যাগের একটি গভীর মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার লা হিগেরা গ্রামে সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে ধরা পড়েন চে গেভারা এবং স্থানীয় এক যোদ্ধা উইলি। কিউবা বিপ্লবের অন্যতম শীর্ষ নায়ক, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী চের এই বন্দিত্বের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দ্রেস সেলিচ।
লা হিগেরার একটি ভাঙা স্কুলঘরের বারান্দায় কর্নেল সেলিচের সঙ্গে যুদ্ধাহত চের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা কথা হয়। ঘটনার ২৯ বছর পর ১৯৯৬ সালে মার্কিন সাংবাদিক জন লি অ্যান্ডারসনকে সেই কথোপকথনের লিখিত বিবরণ দেন প্রয়াত সেলিচের বিধবা স্ত্রী। পরবর্তীতে অ্যান্ডারসনের রচিত জীবনচরিতে চের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর কথা বিশদভাবে উঠে আসে। ইতিহাসের এই বিরল দলিলের বিষয়ে আলবের্তো মঙ্গেল মন্তব্য করেছিলেন যে শত্রুপক্ষও কোনো মানুষের সর্বশেষ কথাবার্তা সম্মানের সহিত লিখে রেখেছিল।
কথোপকথনে চে গেভারা বলিভিয়ার দরিদ্র ও অধিকারহীন মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নামার কারণ তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে ৯ অক্টোবর সিআইএর কিউবাবংশীয় চর ফেলিস রদ্রিগেসের উপস্থিতির মধ্যে চে গেভারাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর মরদেহ ভাইয়েগ্রান্দে শহরে প্রদর্শনীর পর অজ্ঞাত স্থানে পুঁতে ফেলা হয় এবং ১০ অক্টোবর বিশ্ববাসীকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানাতে ছবি প্রকাশ করা হয়।
বলিভিয়ার সেই ইতিহাসের মতো বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানেও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও জাগরণ প্রত্যক্ষ করা গেছে। সেই উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথের অগণিত গ্রাফিতি ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় জনগণের অদম্য শক্তি। পঞ্জিকায় না থাকা সত্ত্বেও মানুষের কল্পনার শক্তিতে রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছিল অভিনব এক তারিখ '৩৬ জুলাই'।
কবি নিজাম বিশ্বাসের পঙ্ক্তি ও ইতিহাস তুলে ধরে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান উল্লেখ করেন, মৃত্যুর ভয় জয় করে জাগ্রত হওয়া এই সাধারণ মানুষই নিরেট গণশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। শত শত মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মৃত্যুঞ্জয় মানুষের এই কাফেলাই আমাদের কালের নায়ক হয়ে উঠেছে।