উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দেশের চলমান জ্বালানিসংকট নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি সংস্কারকাজ ও ওয়ার্কওভারের অনুমোদনক্ষমতা পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দলটি।
জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় ও ট্যারিফ জনসমক্ষে প্রকাশ করা, জরুরি দরপত্র মূল্যায়নে স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি নিশ্চিত করে আটকে থাকা ফাইলের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খুলনার রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রস্তুত হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়নি এবং মহেশখালী ও পায়রা টার্মিনালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও জনগণ অবগত নয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংকট নিরসনের পরিকল্পনা গত ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে রয়েছে। বিরোধী দলের ১০ দফা ও সংসদীয় কমিটির ১২ দফাকে ভিত্তি করে সরকার, বিরোধী দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার আগামী ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জ্বালানি নিরাপত্তায় কার্যকর সমাধান দেওয়ার প্রতিযোগিতা হওয়া প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে সরকার কোনো ইতিবাচক ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে।
বিরোধী দলকে রাজপথে পাওয়া যায়নি এবং তারা ‘গুপ্ত’ ছিল—প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম ও গুলির মুখে রাজপথে লড়াই করেছেন। ব্যর্থতা ঢাকতে ও জনদুর্ভোগ আড়াল করতে সরকারপ্রধান এমন মীমাংসিত রাজনৈতিক বিতর্কের অবতারণা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ ও মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।