উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রথমটি এবং পরে বেলা ৩টায় আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তির পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা এযাবৎ তিনটা মনোনয়নপত্র পেয়েছি। তিনটার ভেতরে একজন ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, ওনার মনোনয়নপত্র পেয়েছি দুটো। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ওনার মনোনয়নপত্র পেয়েছি একটা।’
অলির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমার বিষয়ে সচিব আরও বলেন, ‘এটা আমাদের প্রশ্ন না। আমাদের প্রশ্নটা হচ্ছে যে দুটো পেয়েছি। যাচাই-বাছাইয়ের পরে আইন অনুযায়ী প্রথমটাই যদি বৈধ হয়ে যায়, দ্বিতীয়টা আর বাছাই করার দরকার নেই। কেন দিয়েছেন, এটা তো ওনারা (১১–দলীয় ঐক্য) বলবেন। আমি কী করে বলব।’
দুটি মনোনয়নপত্র দেওয়ার কারণ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর না রাখার সতর্কতার অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে। পাবনা-১ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেনও জানান, কোনো ত্রুটি যাতে না থাকে সে কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসি ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রথম মনোনয়নপত্রে নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে কিছু গরমিলের বিষয় নজরে আসায় সতর্কতাবশত দ্বিতীয়টি জমা দেওয়া হয়। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ এই জোটের প্রার্থী হলেও বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তার সহায়তায় প্রার্থীদের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হওয়া পদে এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বর্তমানে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জামায়াত জোটের ৯০টি আসন থাকায় সংখ্যার হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত।