উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম আখেরি চাহার শোম্বা। ফারসি শব্দ ‘আখেরি’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার, অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবার। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষ স্মৃতি ও ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সফর মাসের শেষ বুধবারে রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থতার মধ্যে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করে সমাজে দান-সদকা, জিকির ও নফল ইবাদতের আয়োজন দেখা যায়। তবে সহিহ হাদিসের বর্ণনায় দিনটিকে বিশেষ ইবাদত বা শরিয়ত-নির্ধারিত দিবস হিসেবে ঘোষণার সুস্পষ্ট দলিল নেই।
ইসলামে সফর মাস বা কোনো নির্দিষ্ট দিনকে অশুভ মনে করার সুযোগ নেই। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় জাহেলি যুগের এই অশুভ লক্ষণের কুসংস্কার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ফলে এ দিনটিকে অমঙ্গলের মনে করা বা বিশেষ বিপদনাশক আমল হিসেবে নির্দিষ্ট দোয়া-ওজিফাকে আবশ্যক করা ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আখেরি চাহার শোম্বায় অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, কোরআন তিলাওয়াত বা সাধারণ নফল ইবাদত নিষিদ্ধ নয়। তবে নির্দিষ্ট চার রাকাত নামাজ বা বিশেষ রোজাকে এই দিনের বিশেষ শরিয়তি আমল মনে করার ক্ষেত্রে চার মাযহাবের ফিকহি নীতি ও হাদিসের দলিল প্রয়োজন। আবেগের চেয়ে সুন্নাহ ও দলিলকে অগ্রাধিকার দেওয়াই ইসলামি বিধানের মূল ভিত্তি।
কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কলামিস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার নিরাপদ পথ হলো প্রমাণিত সুন্নাহ অনুসরণ করা। ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সম্মান জানিয়েও শরিয়তের বিধান পালনে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহকে অনুসরণ করাই উত্তম।