উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন নতুন ভোরের প্রত্যাশা করছে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পেশাদারত্ব ও শৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনে এক গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট ও তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে বদলি বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত হলো সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়লে এবং জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন না হয়ে অর্থ লেনদেনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিপুল অঙ্কের ঘুস দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া কর্মকর্তারা তখন বিনিয়োগ করা টাকা তোলার চেষ্টা করেন, ফলে অপরাধ দমন ও জনসেবা গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়।
মাঠপর্যায়ে মব কালচার দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারার পেছনেও এসব অনিয়ম দায়ী। শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে গোপন বদলি বাণিজ্যের অডিও রেকর্ড এবং চাকরিকে ব্যবসা বলার মন্তব্য পুরো বাহিনীর পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির বিধিমালা ইচ্ছামতো সংশোধন করে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করা মাঠপর্যায়ে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনে বদলি বাণিজ্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা জরুরি। পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকেই অন্যতম মাপকাঠি করতে হবে এবং কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে দেওয়া যাবে না। চেইন অফ কমান্ড পুনর্বহাল এবং অনিয়মে জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে পুলিশকে একটি সত্যিকারের স্বাধীন, জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলা এ মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি কাজ।