উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা নিয়ে জনপরিসরে চরম প্রশংসা ও পুরো ব্যবস্থাকে সমস্যার উৎস হিসেবে দেখার দুটি চরম অবস্থান লক্ষ করা যায়। তবে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যা মূল্যবোধ, পরিচয়, সামাজিকীকরণ, সাংস্কৃতিক পুনরুৎপাদন এবং নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেছেন সাহিত্যিক ও কলামিস্ট মুসা আল হাফিজ।
কওমি মাদ্রাসায় কুরআন, হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানের গভীর অধ্যয়ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ, কম খরচে শিক্ষা প্রদান ও চরিত্র গঠনের মতো প্রশংসনীয় শক্তি রয়েছে। তবে সম্প্রতি শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনা পুরো ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব না করলেও তা প্রতিষ্ঠানের জনআস্থা, অভিভাবকদের নিরাপত্তাবোধ ও নৈতিক বৈধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কার্যকর জবাবদিহি, তদারকি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। ভয়, লজ্জা কিংবা সামাজিক কলঙ্কের আশঙ্কায় অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিনির্ভর আস্থার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিরাপত্তা, গোপন অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমে লিখিত শিশু সুরক্ষা নীতি, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সুস্পষ্ট আচরণবিধি, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। একইসঙ্গে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা, শিক্ষকদের নিবন্ধন এবং বহিষ্কৃত কোনো শিক্ষকের অন্য প্রতিষ্ঠানে পুনরায় নিয়োগ রোধে নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।
শিক্ষকদের জন্য আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, শিশু মনোবিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও উপযুক্ত বেতন-ভাতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক সেবা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সমস্যা অস্বীকার না করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই সময়োপযোগী পথ।