উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাল্টা আগুন দেওয়া এবং হেলিকপ্টার থেকে ছত্রভঙ্গের নির্দেশ সংক্রান্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্কের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসব অডিও প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই অডিও উপস্থাপন করেন। নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার এসব কথোপকথন হয়।
ফোনালাপে আন্দোলনকারীরা আগুন দিলে পাল্টা তাদের বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে এলাকায় প্রটেকশনের নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া, বড় জমায়েতগুলোতে র্যাব ও বিজিবি প্রস্তুত রেখে হেলিকপ্টার থেকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দিতে শোনা যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। तत्कालीन পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এই নির্দেশকে ‘টিট ফর ট্যাট’ বলে সমর্থন জানান।
অন্য এক ফোনালাপে হাছান মাহমুদ ৮৫ জন বিদেশি কূটনীতিককে ব্রিফিংয়ের তথ্য জানান এবং উল্টাপাল্টা খবরের আশঙ্কায় গণমাধ্যমকে না ডাকার কথা বললে শেখ হাসিনা তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা নিয়ে কূটনীতিকদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠলে শেখ হাসিনা বলেন, ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে উল্টাপাল্টা অনেক কিছু হতো, তাই চুপ থাকাই ভালো হয়েছে।
কথোপকথনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ এবং আন্দোলন ও হত্যার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর কৌশল নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। শেখ হাসিনা দাবি করেন, ছাত্ররা নিজেরাই নিজেদের গুলি করে মারছে এবং এই আন্দোলন জামায়াত-বিএনপি ‘তালেবানি স্টাইলে’ করছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা সমন্বিতভাবে উসকানি, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যা ও সহিংসতা চালিয়েছেন। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বর্তমানে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।