উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বাজারে ‘দই ভাই’ নামে বিক্রি হচ্ছে দই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের সুড়িরমোড় এলাকায় একটি বাড়িতে এ দই উৎপাদনের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে কারখানাটির বাইরে কোনো সাইনবোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের নামফলক দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের দই উৎপাদন করা হচ্ছে। সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পাওয়ার পর সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দেখা যায়। তবে কারখানাটির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা বা অনুমোদনের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।
কারখানার স্টাফ পরিচয়দানকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছি। ব্র্যান্ডিং ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে সেগুলো উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কাছে আছে।”
তবে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট নথি বা অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে উৎপাদিত দইয়ের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ভোক্তা মো. লিখন বলেন, “আমরা বাজার থেকে ‘দই ভাই’ নামে দই কিনে খাই। কিন্তু কারখানার কোনো পরিচয় বা অনুমোদনের তথ্য না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।”
আরেক ভোক্তা শারমিন আক্তার বলেন, “খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্য উৎপাদন করলে তা ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আহমেদ আলী শাহ বলেন, “একদিন কারখানাটি যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওইভাবে দেখা হয়নি।”
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শিহাব উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি শুনলাম এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করতে পারেন।”
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের তই নয় বরং বাজারে এমন সকল পন্যের উৎপাদন কারখানার বৈধতা, বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।