উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশ্বজুড়ে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে এআই-এর কার্যকর ব্যবহার করা গেলে যে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সাধারণত প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগে, তা মাত্র এক দশকেই অর্জন করা সম্ভব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়, কৃষকদের ফসল ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো খাতগুলোতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকায় প্রয়োজনীয় নীতিমালা ছাড়া এই প্রযুক্তি দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন ও আয়বৈষম্য বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংক তিন ধাপের একটি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। প্রথম ধাপে বিদ্যমান এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা, দ্বিতীয় ধাপে সেগুলোকে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করা এবং তৃতীয় ধাপে উন্নত ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ার জানান, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও দক্ষ জনবল এখনই গড়ে তোলা দেশগুলোই এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।
প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ১৪.২ শতাংশ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬.২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে এআই-এর মাধ্যমে কর্মীদের কাজের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এআইয়ের বিপ্লব ঘটাতে মৌলিক অবকাঠামোয় বিশ্বব্যাংক ‘মিশন-৩০০’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগে গুরুত্ব আরোপ করেছে।