উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নতুন পানিতে হাওর অঞ্চলের ডুবো সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় হাওড় অঞ্চলে স্থাপিত সরকারি ছয়টি ফেরিঘাট গত ১৮ই জুন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রী সাধারণ এবং পর্যটকদেরকে নৌকা অথবা ট্রলারে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে এবং পুরোদমে বর্ষা মৌসুম না আসায় শুধুমাত্র স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বর্ষার পানি না আসায় পুরোদমে পর্যটন মৌসুম শুরু হতে আরো ১৫-২০ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং নিকলীসহ হাওর অঞ্চল বর্তমানে দূরদূরান্তের পর্যটক শূন্য।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এবং মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান যে এ বছর পরিপূর্ণ বর্ষা না হলে বর্ষাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য খুবই মন্দা যাবে কারণ নৌকা ও ট্রলার প্রস্তুত রাখা হলেও পানির অভাবে এগুলো পুরো দমে চালানো যাচ্ছে না। কিশোরগঞ্জ জেলা ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং ১৯৮৫ সালে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করার পর বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে যার চারটি উপজেলাকে সরকার হাওর উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলাগুলো হল নিকলী, ইটনা, মিটামইন ও অষ্টগ্রাম এবং নিকলীকে সরকার পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের পুরো হাওড় অঞ্চল ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলো জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এবং অক্টোবর মাসের শেষের দিকে বর্ষার পানি কমতে শুরু করে। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে দুইভাবেই নিকলী হাওরে আসা সম্ভব এবং ট্রেনে আসতে চাইলে মানিকখালী অথবা গচিহাটা স্টেশনে নেমে ইজিবাইক, অটো রিক্সা বা সিএনজিতে নিকলী যাওয়া যায়।
বাসে আসতে চাইলে মহাখালী বা গুলিস্তান থেকে কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি যোগে নিকলী পৌঁছানো যায় এবং নিকলী উপজেলা সদরে নামার পর সেখানে কয়েকটি খাবার হোটেল ও নৌকায় ঘুরে বেড়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। সারাদিনের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করে নিলে নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের করস বাগান, মিঠামইন উপজেলা সদর এবং সেখান থেকে অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলা ঘুরে দেখা সম্ভব। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ থাকলে নৌকা বা ট্রলার ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ভরা বর্ষায় গোসল করতে চাইলে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।