উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গত ১৭ বছরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিনামূল্যের বই নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। টেন্ডার কারসাজি, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, অযৌক্তিক দর বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মবহির্ভূত সম্মানি গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা খাতকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি প্রভাবশালী মুদ্রণ সিন্ডিকেট এবং এনসিটিবির অসাধু চক্রের যৌথ যোগসাজশে বই ছাপানোর কাজকে অনৈতিক ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও এই চক্রের প্রভাব এখনো বজায় রয়েছে। এমনকি আসন্ন শিক্ষাবর্ষের দরপত্রেও উচ্চ দর হেঁকে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফেরাতে অডিট প্রতিবেদনে অভিযুক্ত এনসিটিবির কর্মকর্তা ও চিহ্নিত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত করা এবং বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ‘পাঠ্যপুস্তক মাননিয়ন্ত্রণ সেল’ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের বই না পৌঁছায়।
শিক্ষাব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করতে এনসিটিবিতে প্রশাসনিক সংস্কার এনে কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী সামগ্রিক কেনাকাটা পরিচালনা করে শিক্ষা প্রশাসনের অনৈতিক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করার সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে।