উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করায় হেনরি কিসিঞ্জার ব্যাপকভাবে সমালোচিত ছিলেন। স্বাধীনতার তিন বছর পর ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ঢাকা আসেন। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির প্রথম সফর। প্রায় ২০ ঘণ্টার এই সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
খাদ্যসহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনের একটি মূল কারণ ছিল কিউবা ইস্যু। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি কিউবার কাছে প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পাটের বস্তা বিক্রির চুক্তি করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যসহায়তা পাঠানোর বিষয়টি পিছিয়ে যায় এবং ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের তথ্যমতে, এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
কিসিঞ্জারের ঢাকা সফরের চার দিন আগে, ২৬ অক্টোবর পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। স্বাধীনতার পরপরই তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নেবে না। এমন একজন অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশ্বব্যাংকের মতে, কিসিঞ্জারের ঢাকা সফরের পরই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তার বড় অংশ বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করে।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বাংলাদেশকে ‘বাস্কেট কেস’ বা তলারবিহীন ঝুড়ি হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি কিসিঞ্জারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যদিও মন্তব্যটি করেছিলেন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ইউরাল এলেক্সিস জনসন, তবে কিসিঞ্জারের তাতে সম্মতি ছিল। সফরের সময় কিসিঞ্জারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বৈঠকে ১৯৭১ সালে বঙ্গোপসাগরে রণতরি পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।