উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রাক্তন কূটনীতিক ও বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও নতুন শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে জাপানের সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এ সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে জাপানের আগ্রহ প্রকাশ।
জাপান বহু বছর ধরেই দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিগ-বি বাস্তবায়নে কাজ করছে যা তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারের অংশ। মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে যা পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। তবে চীন ও জাপানের মধ্যকার সূক্ষ্ম অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশ যেন কোনো বৈরিতা বা অক্ষের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশ্লেষক।
জাপানের মুক্ত ও ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণার জবাবে বাংলাদেশ অত্যন্ত পরিপক্ব ও চতুর কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করেছে বলে মনে করেন এম হুমায়ুন কবীর। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপান তাদের ওডিএ ও ওএসএ কাঠামোর আওতায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে জাহাজ দিচ্ছে। তবে সমুদ্র নিরাপত্তার জন্য এসব সরঞ্জাম গ্রহণ করলে চীন বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বড় কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
জাপানি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপযোগিতার ওপর জোর দিতে হবে। ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মডেল অনুসরণ করে নার্সিং, আইটি ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ জনবল পাঠাতে পারলে স্থায়ী শ্রমবাজার গড়ে তোলা সম্ভব। সঠিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলে জাপানের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দেশে মর্যাদাপূর্ণ বাজার পাওয়া পুরোপুরি সম্ভব।