উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুষ্টিয়ায় আগামী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেশব্যাপী লংমার্চ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সমাবেশের স্থান নির্ধারণ ও পরবর্তী সময়ে ভেন্যু পরিবর্তনের নির্দেশনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলেছে দলটি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল গফুর জানান, গণভোটের গণরায় কার্যকর, গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে দেশব্যাপী লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর রুটের কর্মসূচি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা রুটের লংমার্চ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্টেডিয়ামটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করা যাবে না। পরে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে সমাবেশ আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়।
জামায়াত নেতার দাবি, জেলা প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে জেলা স্কুল মাঠে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণসহ প্রচার-প্রচারণার কাজও প্রায় শেষ করা হয়।
কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি চিঠি পাঠিয়ে জেলা স্কুল মাঠের পরিবর্তে আবারও স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল গফুর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে আয়োজকদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন জামায়াত নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাবেশের অনুমতিপত্রের অনুলিপি অনুমোদিত ব্যক্তি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভেন্যু নিয়ে জটিলতা সত্ত্বেও নির্ধারিত দিনে কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাত দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এনামুল হক, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকগণ ।