উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচিত ও প্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ, জাপান’ উদ্যাপন করেছে ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ২৫শে অক্টোবর, রোববার টোকিওর আদাচি ওয়ার্ড অফিস হলে আয়োজন করা হয় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি কিংবা বিশেষ অতিথি হিসেবে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
আয়োজকদের ভাষ্য, “আমাদের আগত দর্শক-শ্রোতারাই আমাদের সম্মানিত অতিথি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উত্তরণের লিডার কামরুদ্দিন হোসেইন পাপ্পু স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিশুশিল্পী আজমীর নৃত্য এবং মৌটুসি দত্তের কণ্ঠে পাহাড়ি গান দর্শকদের উপভোগের সুযোগ করে দেয়। এদিকে এবারের অনুষ্ঠানে নিয়াজ আহমেদ জুয়েলের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুপস্থিত ছিল। মামুন, মৌ, ওয়াতানাবে বাবু ও নাশরাহ আহমেদসহ পরিচিত কয়েকজন শিল্পীর অনুপস্থিতিও দর্শক-শ্রোতারা অনুভব করেছেন।
তবে ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন প্রত্যাশিত প্রাণবন্ততা অর্জন করতে পারেনি বলে মনে হয়েছে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় কিছুটা অগোছালো ভাবও লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে উত্তরণের এবারের আয়োজন আরও গোছানো ও আকর্ষণীয় হতে পারতো—এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তৃতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণ। উত্তরণের জ্যেষ্ঠ সদস্য যেরোম গোমেজের দৌহিত্র অর্ক গোমেজ তার মা তুলি গোমেজের সঙ্গে দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের এই অংশগ্রহণ বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে মাত্র ৯ জন সংস্কৃতিপ্রেমী সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে উত্তরণ। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৪০। জাপানের মতো ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে প্রবাস জীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ৩৮ বছর ধরে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় অর্জন।